ব্যাংকে টাকা জমানোর ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই কোন ব্যাংকে কত মুনাফা দেয় সে সম্পর্কে জেনে নিতে চাই, কিংবা তা জেনে টাকা জমানোর দিকে এগোতে চাই।
এক্ষেত্রে কোন ব্যাংক থেকে আপনি কত টাকা মুনাফা পাবেন অর্থাৎ ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার ক্ষেত্রে কত টাকা লাভ পাবেন, সে সম্পর্কিত তথ্য জেনে নেয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন রকমের ব্যাংকের মুনাফার হিসাব বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। অর্থাৎ ব্যাংক ভিন্নতায় এই হিসাব কমবেশি হয়ে থাকে।
পোস্টের ভিতরে যা থাকছে
কোন ব্যাংকে কত মুনাফা দেয়?
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে সমস্ত ব্যাংক রয়েছে, প্রায় প্রত্যেকটি ব্যাংকের মুনাফার সম্পর্কে আপনি যদি জেনে নিতে চান কিংবা ব্যাংকে টাকা জমানো ক্ষেত্রে আপনি কত টাকা মুনাফা পাবেন, সেটি সম্পর্কে যদি জেনে নিতে চান তাহলে সেটা কিভাবে জানবেন?
অর্থাৎ এই সম্পর্কিত তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড
বাংলাদেশের যে সমস্ত ব্যাংকের ডিপিএস করার সুযোগ খুবই কম হিসেবে বিবেচনা করা হয়, সেগুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য একটি হলো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড।
- আপনি সর্বোচ্চ ৩ বছর মেয়াদের জন্য একটি ডিপিএস হিসাব খুলতে পারবেন।
- প্রাথমিক হিসেবে জমা দিতে হবে ১০,০০০ টাকা এবং মাসিক কিস্তি ১০০০ টাকা।
এখানে আরেকটি হিসাব বিদ্যমান রয়েছে আর সেটি হলো, আপনি যদি ৪৬ হাজার টাকা জমা করেন, তাহলে ৫৩ হাজার টাকা ফেরত পাবেন।
সোনালী ব্যাংক লিমিটেড
সোনালী ব্যাংকে আপনি ৫ বছর মেয়াদী একটি ডিপিএস অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।
এই ব্যাংকে মাসিক কিস্তিতে ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা রাখা সম্ভব।
সুদের হার শতকরা ৮.৫০ টাকা হারে পাবেন এবং সঞ্চয়ী হিসাব খুললে সুদের হার হবে ৬.৫ টাকা।
ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড ডিপিএস
আপনি যদি ডাচ বাংলা ব্যাংকের একজন গ্রাহক হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি ডাচ বাংলা ব্যাংকের ডিপিএস সিস্টেম রয়েছে সেই ডিপিএস সিস্টেম এ টাকা জমাতে পারবেন।
এবার তাহলে জেনে নেয়া দরকার ডাচ বাংলা ব্যাংকে আপনি যদি ডিপিএস পদ্ধতিতে টাকা জমা রাখেন, তাহলে কি রকমের লাভ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- এখানে ডিপিএস পদ্ধতিতে আপনি যে টাকা জমা রাখবেন সেই টাকা জমা রাখার মেয়াদকাল হবে ৩,৫,৮ কিংবা ১০ বছর।
- এখানে ৫০০ টাকা গুণিতকে আপনার ইচ্ছামত টাকা জমা রাখতে পারবেন।
- সুদের হার শতকরা ৭.৫ টাকা।
এই ব্যাংক সঞ্চয়ী হিসাবের জন্য সুদ দিবে ৪ টাকা।
উপরে যে তিনটি ব্যাংকের তত্ত্ব আলোচনা করা হয়েছে, এই সমস্ত ব্যাংক ছাড়াও বাংলাদেশে আরও অনেক ব্যাংকে আপনি টাকা জমাতে পারবেন। এবং এখান থেকে মুনাফা নিতে পারবেন।
কোন ব্যাংকে ডিপিএস লাভ বেশি কিংবা কোন ব্যাংকের মুনাফা বেশি পাবেন, সেই সম্পর্কিত তথ্য যদি জেনে নিতে চান তাহলে সেটি সম্পর্কিত তথ্য নিচে থেকে জেনে নিন।
জেনে নিন: কোন ব্যাংকে ডিপিএস লাভ বেশি
উপরে উল্লেখিত আর্টিকেল দেখে নিলে বাংলাদেশের যে সমস্ত ব্যাংক রয়েছে, প্রায় প্রত্যেকটি ব্যাংকে টাকা জমানোর ক্ষেত্রে আপনি যে মুনাফা পাবেন তার হিসাব দেখে নিতে পারবেন।
ব্যাংক এর মুনাফা নেয়া কি হালাল?
ব্যাংকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমানোর পরে অতিরিক্ত যে টাকা আসে, সেটি সুদ বিবেচনা করা হয়। আর যেকোনো মূল্যে সুদ দেয়া এবং নেয়া উভয়ই অপরাধ।
অর্থাৎ টাকা জমানোর পরে আপনি যদি বর্ধিত পরিমান টাকা নিজের কাছে নিয়ে আসেন, তাহলে সেটি হারাম হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যা থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য কর্তব্য।
সুদের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আরও কয়েক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে। যেমন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেও না। আল্লাহকে ভয় করো। তাহলে তোমরা সফল হতে পারবে। ’ -সূরা আল ইমরান: ১৩০
‘মানুষের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তোমরা যে সুদ দিয়ে থাক আল্লাহর দৃষ্টিতে তা সম্পদ বৃদ্ধি করে না। কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যে জাকাত দিয়ে থাক তা বৃদ্ধি করে। প্রকৃতপক্ষে জাকাত প্রদানকারীরাই সমৃদ্ধি আনে। ’ -সূরা রূম: ৩৯
সেজন্য আপনি যদি আপনার টাকা পবিত্র রাখতে চান এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে চান, তাহলে ব্যাংকে টাকা জমানোর অতিরিক্ত অংক পরিহার করুন।
প্রয়োজনে সেটি গরীব-দুস্থদের বিলিয়ে দিয়ে টাকা পবিত্র রাখুন।
Banks-bd.com এখন ইউটিউবে!!
নিত্য নতুন ব্যাংকিং রিলেটেড ইউটিউব ভিডিও পাওয়ার জন্য আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিজিট করতে পারেন৷