কোন ব্যাংকে চার্জ কম এবং বেশি জেনে নিন

যে কোন ব্যাংকে টাকা জমানোর ক্ষেত্রে সেই ব্যাংকে একটি বাৎসরিক চার্জ দিতে হয়। আর আপনি যদি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে চান, তাহলে কোন ব্যাংকে চার্জ কম সে সম্পর্কে জানার একটি বিষয় রয়েছে।

কারণ বাংলাদেশে যেহেতু বিভিন্ন রকমের প্রায় অর্ধশতাধিক এর উপরে ব্যাংক রয়েছে সেজন্য যে ব্যাংকের সেবা ভালো এবং চার্জ কম ব্যাংকের রেখে আমরা মনোনিবেশ করতে চাই।

আর আপনি যদি বাংলাদেশের প্রায় অনেকগুলো ব্যাংকের মধ্যে থেকেই যে ব্যাংকের চার্জ সবচেয়ে কম সেই ব্যাংক বেছে নিতে চান, তাহলে এই আর্টিকেলটি দেখে নিতে পারেন।

কোন ব্যাংকে চার্জ কম

বাংলাদেশি এরকম অনেক ব্যাংক রয়েছে যে সমস্ত ব্যাংকের চার্জ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। এক্ষেত্রে এই লিস্টে আমি যে ব্যাংকগুলোকে রাখবো সেগুলোর মধ্যে থেকে অন্যতম হলো দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড এবং ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

আপনি যদি এই সমস্ত ব্যাংকের চার্জের হিসাব দেখে নিতে চান, তাহলে নিচে থেকে সেগুলো জেনে নিতে পারেন।

সিটি ব্যাংক লিমিটেড

বিভিন্ন রকমের ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করার জন্য আপনাকে প্রথমত ব্যাংক একাউন্টে কিছু টাকা জমা রাখতে হয়। কিংবা একাউন্টে ডিপোজিট করার সময় আপনার একাউন্টে কিছু টাকা থেকে যায়।

অর্থাৎ একাউন্টে যখনই আপনি ডিপোজিট করবেন তখন আপনার একাউন্টে ৫০০ টাকা কিংবা ১০০০ টাকা অটোমেটিকলি থেকে যাবে, যেগুলো আপনি তুলতে পারবেন না।

এসমস্ত টাকা আপনাকে একাউন্ট বন্ধ করার সময় তুলতে হয়। অন্যথায় আপনি কান্নাকাটি করলেও এই একাউন্টে টাকাগুলো তুলতে পারেন না।

তবে আপনি যদি সিটি ব্যাংকের দিকে লক্ষ্য রাখেন তাহলে দেখতে পারবেন সিটি ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করার সময় কোন রকমের টাকা দিতে হয় না কিংবা অ্যাকাউন্টে কোনো রকমের টাকা জমা রাখতে হয় না।

অর্থাৎ আপনি চাইলেই ব্যাংক থেকে সমূলে টাকা তুলতে পারবেন। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র আপনি যদি চেকবুক ইস্যু করেন তাহলে চেকবুকের জন্য ৩৫০ টাকা বা কম বেশি প্রতিবছরান্তে দিতে হবে।

তাছাড়াও আপনি যদি ব্যাংক থেকে কোনরকমে ডেবিট কার্ড কিংবা ক্রেডিট কার্ড নিয়ে থাকেন, তাহলে সেই কার্ডের জন্য আপনাকে প্রতিবছরে ফি দিতে হবে।

তবে ব্যাংকে টাকা রাখার চিন্তাভাবনা করলে আপনাকে এই ব্যাংকে কোনরকমে টাকা পয়সা রাখতে হয় না। এই একটি সুবিধা বাংলাদেশের সিটি ব্যাংকে শুধুমাত্র রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড বাংলাদেশ

এছাড়াও সেবা এবং ফি এর কথা চিন্তা-ভাবনা করলে, আরেকটি অন্যতম ব্যাংকের নাম বলতে হয় সেটি হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।

ইসলামী ব্যাংকের কোন রকমের আহামরি ফি নেই। এছাড়াও এই ব্যাংকে যেসমস্ত ফি রয়েছে, সেগুলো অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় সিথিল এবং সেবার গুণগতমান মান নির্বাচনে অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে এগিয়ে।

ইসলামী ব্যাংকে অন্যান্য অনেক ব্যাংকের মতো আপনাকে ৫০০ টাকা জমা রাখতে হয়। এবং তারপরে আপনি যদি কোন রকমের কার্ড নেন, তাহলে সেই কার্ড বাবদ আপনাকে বছরান্তে ফি জমা দিতে হয়।

কোন ব্যাংকের চার্জ সবচেয়ে বেশি?

এরকম অনেক ব্যাংক রয়েছে যে সমস্ত ব্যাংকের চার্জ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। অর্থাৎ এই সমস্ত ব্যাংকে আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা রাখতে হয়। যা অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় বেশি।

এই সমস্ত ব্যাংকের মধ্যে থেকে অন্যতম একটি ব্যাংক খোলা সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড। আপনি যদি সাউথইস্ট ব্যাংকে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন তাহলে আপনাকে প্রথমত ১,০০০ টাকা জমা রাখতে হয়।

তারপরে আপনি এই ১,০০০ টাকা জমা দেয়ার পরবর্তীতে ব্যাংক থেকে আপনি যদি কোন রকমের চেকবুক নিয়ে থাকেন, তাহলে সেই চেকবুকের জন্য আলাদাভাবে ফি দিতে হয়।

ঠিক একইরকম ভাবে আপনি যদি ব্যাংক থেকে কোনো রকমের ডেবিট কার্ড কিংবা ক্রেডিট কার্ড নিয়ে নেন তাহলে বাৎসরিক চার্জ হিসেবে আপনাকে আরো ৫৭৫ বেশি টাকা দিতে হয়।

এবং এসএমএস ব্যাংকিং চার্জ হিসেবে আপনাকে আরো ৩৫০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি বাৎসরিক চার্জ দিতে হয়।

এভাবে আপনি যদি চার্জের ক্যালকুলেশন করেন তাহলে এ ব্যাংকের চার্জ তুলনামূলক অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে অনেক গুনে বেশি হয়ে যায়। তবে আমি এটা বলছি না যে শুধুমাত্র এই ব্যাংকেই এরকম চার্জ রয়েছে।

এরকম আরো অনেক ব্যাংক রয়েছে যে সমস্ত ব্যাংকের বাৎসরিক চার্জ হিসেবে অনেক টাকা গুনতে হয়। তবে তাদের ব্যাংক চার্জ বেশি হলেও তাদের সেবা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি ভালো।

অর্থাৎ বাংলাদেশের অন্যান্য যে সমস্ত লিডিং ব্যাংক রয়েছে সেগুলোর মধ্যে থেকে সাউথইস্ট ব্যাংক অন্যতম। তবে আপনি যদি ব্যাংক চার্জ এর কথা বিবেচনা করেন তাহলে সেই ব্যাংকের চার্জ তুলনামূলক অনেক বেশি।

তবে শুধুমাত্র এই ব্যাংকে যে চার্জ তুলনামূলক অনেক বেশি তা কিন্তু নয়। আরো অনেক ব্যাংক রয়েছে যেগুলোতে চার্জের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী।

কোন ব্যাংকে চার্জ কম এবং কোন ব্যাংকের চার্জ বেশি সেই রিলেটেড বিস্তারিত তথ্য এই আর্টিকেল আলোচনা করা হলো।

এখানে যে ব্যাংকে চার্জের পরিমাণ বেশি দেয়া হয়েছে, সেই ব্যাংক স্পেসিফিক্যালি বলার কারণ হলো, এই ব্যাংকে চার্জের পরিমাণ বেশি হলেও তাদের গুণগত সেবা অনেক ভালো।

বলাবাহুল্য, আমি নিজে সাউথইস্ট ব্যাংকের সেবা নিচ্ছি এবং তাদের সেবা অনেক ভালো। তবে আপনি যদি বেশি চার্জ দিতে না চান, তাহলে আপনার পছন্দমত ব্যাংক নির্বাচন করে নিতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top