কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন

আপনি যদি কর্মসংস্থান ব্যাংকের একজন গ্রাহক হয়ে থাকেন, তাহলে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে কার্যক্রম সম্পাদনা জন্য, কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি জানার প্রয়োজন হতে পারে।

আজকের এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য।

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতির প্রকারভেদ

আপনি যদি কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান, তাহলে বিভিন্ন রকমের কার্যক্রম সম্পাদন করার জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন।

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার অনেক গুলো ভিন্ন-ভিন্ন খাত আছে, সে সমস্ত লোনের জন্য খাতের জন্য ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারবেন এবং আপনার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

আর যে সমস্ত খাতের জন্য আপনি কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার মতো যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন, সেগুলো নিচে মেনশন করা হলো।

নিজস্ব কর্মসূচী:

(ক)দেশের বেকার বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থান সৃজনে ঋণ সহায়তা প্রদান;

(খ)ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কর্মসূচী (SECP):দেশের বেকার বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কর্মসূচী (Small Enterprise Credit Program) ;

(গ)বিদেশে কর্মসংস্থান ঋণ কর্মসূচী:বিদেশে গমনেচ্ছুকদেরকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিদেশ গমনে সহায়তা প্রদান।

(ঘ)সরকারের বিশেষ কর্মসূচী

(১) কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে ঋণ সহায়তা কর্মসূচী

(ক) কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশ ঘটানো;
(খ) গ্রামীণ পর্যায়ে শিল্প বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা;
(গ) জিডিপিতে কৃষিভিত্তিক শিল্পের অবদান বৃদ্ধি করা;
(ঘ) কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা ;

(২) শিল্প কারখানা/প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছা-অবসরপ্রাপ্ত/কর্মচ্যুত শ্রমিক/ কর্মচারীদের কর্মসংস্থানে জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান কর্মসূচী
:শিল্প কারখানার স্বেচ্ছা-অবসরপ্রাপ্ত/কর্মচ্যুত শ্রমিক/কর্মচারীদের কর্মসংস্থানে জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা ;

(৩) বাঝুঁকানিশিনি-বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসনকল্পে ঋণ প্রদান কর্মসূচী (EHCLB-Eradication of Hazardous Child Labour in Bangladesh)
বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসনকল্পে শিশু শ্রমিকের পিতা-মাতাদের আত্ম-কর্মসংস্থানে (জামানতবিহীন) ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান ;

(৪) বাংলাদেশ ব্যাংক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ঋণ সহায়তা কর্মসূচী (বিবিমপ্রাস)
(ক) প্রাণীজ আমিষ বৃদ্ধির মাধ্যমে দৈহিক ও মেধার বিকাশ সাধন;
(খ) কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা;
(গ) জিডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের অবদান বৃদ্ধি করা;

(৫) বাংলাদেশ ব্যাংক ‘‘দুগ্ধ উৎপাদন ও কৃত্রিম প্রজনন খাতে পুন:অর্থায়ন স্কীম’’ (বিবিকৃপ)

(ক) কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জাত উন্নয়নপূর্বক দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা ;

(খ) কৃত্রিম প্রজনন সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি;

(গ) দুগ্ধ উৎপাদনের মাধ্যমে জিডিপিতে অবদান বৃদ্ধি করা;

(ঙ)কনজুমারস ক্রেডিট স্কীম/ ব্যক্তিগত (পারসোনাল) ঋণ:ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিত্য ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য কনজুমারস ক্রেডিট স্কীমের আওতায় ঋণ প্রদান;

(চ)কম্পিউটার/ল্যাপটপ ক্রয় ঋণ:

ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কম্পিউটার/ল্যাপটপ ক্রয়ে ঋণ প্রদান;

(ছ)গৃহ নির্মাণ ঋণ:

ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা সৃষ্টির জন্য স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান;

(জ)মোটর সাইকেল ঋণ

উপরে যে সমস্ত প্রকারভেদ এর কথা মেনশন করা হয়েছে সেই সমস্ত প্রকারভেদ এর মধ্যে আপনি কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি জন্য আবেদন করতে পারবেন।

লোন নেয়ার যোগ্যতা

এই ব্যাংক থেকে আপনি যদি লোন নিতে চান, তাহলে আপনার যে সমস্ত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, সেগুলো নিচে মেনশন করা হলো।

  • অবশ্যই বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে।
  • আপনার বয়স সীমা ১৮ বছর থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • যে কোন প্রকল্পের জন্য লোন নেয়ার আগে, আপনার ওই প্রকল্প সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
  • ঋণ নীতিমালা মানার জন্য একনিষ্ঠ থাকতে হবে।

লোন নেয়ার কাগজপত্র

আপনি যদি বিভিন্ন টাকার অংক এর জন্য লোন নিতে চান, তাহলে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন কাগজপত্র তাদেরকে দিতে হবে।

তবে একেবারে প্রাইমারিভাবে আপনি যদি কাগজপত্রের কথা চিন্তা ভাবনা করেন, তাহলে নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলো তাদের কাছে প্রভাইড করতে হবে।

  • ঋণ আবেদনের জন্য ফরম সংগ্রহ করা।
  • আবেদনকারীর সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি।
  • যাকে গ্যারান্টি হিসেবে নির্বাচন করবেন সেই গ্যারান্টার ব্যক্তির দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি।
  • উদ্যোক্তা এবং এর আন্ডারে স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র হিসেবে উদ্যোক্তা গ্যারান্টারের দলিলের ফটোকপি এবং নিকটস্থ ইউপি চেয়ারম্যান মেয়র কিংবা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর কতৃক নাগরিকত্ব সনদ দিতে হবে।
  • এছাড়াও এক লাখ টাকার ঊর্ধে ঋণের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স এর কপি প্রয়োজন হবে।
  • আপনি যদি ঔষধের দোকান দেন, তাহলে ঔষধের দোকানের ক্ষেত্রে ড্রাগ লাইসেন্স এর কপি প্রয়োজন হবে। ইত্যাদি।

একেবারে প্রাইমারি ভাবে আপনি যদি এই ঋণ নিতে চান, তাহলে উপরে উল্লেখিত কাগজপত্র গুলো প্রয়োজন হবে।

তবে আপনার ঋণের পরিমাণ যত বৃদ্ধি হবে কাগজপত্রের পরিমাণের অংশ তত বৃদ্ধি হবে।

ব্যাংক থেকে কত টাকা লোন নেয়া যাবে?

এই ব্যাংক থেকে আপনি চাইলে ১ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আপনার ইচ্ছানুসারে লোন নিতে পারবেন।

এবং লোন নেয়ার ক্ষেত্রে সরল সুদ (!) প্রযোজ্য হবে।

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে কিভাবে লোন নিবেন?

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম আপনার আশেপাশে থাকা যেকোনো একটি কর্মসংস্থান ব্যাংকের শাখায় চলে যেতে হবে এবং তারপর এখানে গিয়ে লোন নেওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে।

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো যদি পর্যালোচনা করেন এবং এখান উল্লেখিত কাগজপত্রগুলো সাথে নিয়ে যান, তাহলে সব বিবেচনা করে তারা আপনাকে লোন দিয়ে দিবে।

রিমাইন্ডারঃ ব্যাংক থেকে লোন নেয়া কি জায়েজ?

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top