ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন

আমাদের মধ্যে এরকম অনেকেই রয়েছেন যারা কিনা ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে চান।

অর্থাৎ আপনি যদি ইসলামী ব্যাংকের একজন এজেন্ট হতে চান এবং ইসলামী ব্যাংক সাথে নিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে চান, তাহলে নিশ্চয়ই এই রিলেটেড তথ্য জেনে নিতে চাইবেন।

আর আপনি যদি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং রিলেটেড সর্বশেষ তথ্য জেনে নিতে চান, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি দেখে নিতে পারেন এবং এই সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।

ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং আসলে কি?

এজেন্ট ব্যাংকিং এর সংজ্ঞা হলোঃ কোন ব্যাংক কর্তৃক নিয়ােগকৃত এজেন্ট-এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার জনগােষ্ঠীর মাঝে সীমিত আকারে ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা প্রদানই এজেন্ট ব্যাংকিং।

অর্থাৎ দেশের তৃণমূল সমস্ত জনগণের কাছে সীমিত পরিমাণে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর সূচনা।

তাহলে আর দেরি না করে এখনি জেনে নেয়া যাক ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কি রকম সুযোগ সুবিধা উপভোগ করা যাবে এবং এজেন্ট ব্যাংকিং একাউন্ট তৈরি করতে হলে কি করতে হবে।

ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা

ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আপনি যে সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন তার একটি লিস্ট নিচে তুলে ধরা হলোঃ

১. সব ধরণের ব্যাংক হিসাব খােলা
২. নগদ জমা, উত্তোলন ও ফান্ড ট্রান্সফার
৩. বৈদেশিক রেমিট্যান্স-এর অর্থ প্রদান
8. হিসাবের ব্যালান্স অনুসন্ধান ও হিসাব বিবরণী প্রদান
অ্যাকাউন্ট-এর বিপরীতে চেকবই ও ডেবিট কার্ড প্রদান
৬. ক্লিয়ারিং চেক গ্রহণ
POS এর মাধ্যমে টাকা উত্তোলন
৮. বিনিয়ােগ বিতরণ ও বিতরণকৃত বিনিয়ােগের কিস্তি আদায়
৯. ইউটিলিটি (গ্যাস, পানি ও বিদ্যৎ) বিল গ্রহণ
১০. এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমােদিত যেকোন গ্রাহকসেবা।

ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং-এর উদ্দেশ্য:

এছাড়াও আমাদের মধ্যে এরকম অনেকেই রয়েছেন যারা কিনা এ সম্পর্কে জেনে নিতে চান যে এজেন্ট ব্যাংকিং এর উদ্দেশ্য আসলে কি?

অর্থাৎ কি উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনা করা হয় এবং আপনি এজেন্ট ব্যাংকিং পরিচালনা করবেন। এজেন্ট ব্যাংকিং এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জেনে নিতে চাইলে নিম্নলিখিত লেখাগুলো পড়ে নিন।

১. দেশের প্রত্যন্ত এলাকার বিপুল জনগােষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় এনে তাদেরকে এ
সংযুক্তকরণ।

২. ক্ষুদ্র সঞ্চয় সৃষ্টির মাধ্যমে প্রান্তিক ও সীমিত আয়ের জনগােষ্ঠীর পুঁজি গঠনে সহায়তা করা।
ফরেন রেমিটেন্সের অর্থ দ্রুত ও সহজে প্রাপকের নিকট পৌছানাে।

৩.প্রত্যন্ত এলাকার জনগােষ্ঠীর দেশব্যাপী লেনদেন প্রবাহকে সহজতর করা।

৪.সুবিধা ও পুঁজি বঞ্চিতদের অর্থায়নের মাধ্যমে তাদের আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখা।

৫.পল্লীর অবহেলিত কৃষি ও অকৃষি খাতে অর্থায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা।

আপনি কি এজেন্ট হতে পারবেন?

আপনি যদি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর সাথে সম্পৃক্ত হতে চান এবং একজন এজেন্ট হতে চান তাহলে আপনাকে যে সমস্ত রিকোয়ারমেন্ট মেনে চলতে হবে, সেগুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো।

একজন এজেন্ট হতে হলে যে সমস্ত শর্ত মেনে চলতে হবে সেই সমস্ত শর্ত গুলোর মধ্যে থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শর্তের কথা নিচে মেনশন করা হলো।

এই সমস্ত শর্তের সাথে যদি আপনার বর্তমান অবস্থান মিলে যায় তাহলে আপনি এজেন্ট হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

১. সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত এনজিও;
২. মাইক্রো-ক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির আওতায় নিবন্ধিত ক্ষুদ্র বিনিয়ােগ প্রতিষ্ঠান;
৩. সােসাইটিজ রেজিষ্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ এর অধীনে নিবন্ধিত সমিতি;
8. সমবায় সমিতি এ্যাক্ট ২০০১ এর আওতায় গঠিত সমবায় সমিতি;
৫. কোম্পানিজ এ্যাক্ট ১৯৯৪ এর অধীনে গঠিত ও নিবন্ধিত কোম্পানি;
৬. উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান;
৭. শাখা/ইউনিট আছে এমন সরকারি দপ্তর/কার্যালয়;
৮. স্থানীয় সরকারের শহর ও পল্লী অঞ্চলের কার্যালয় এবং ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সুপারিশকৃত বা অনুমােদিত যে কোন প্রতিষ্ঠান।

এজেন্ট হওয়ার অনুপযুক্ত যারাঃ

এছাড়াও যে সমস্ত ব্যক্তিবর্গরা এজেন্ট হতে পারবেন না সে সমস্ত ব্যক্তিবর্গকে বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো।

১. ফৌজদারী অপরাধের অভিযােগে মামলায় তদন্তাধীন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;
২. মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়ণের দায়ে অভিযুক্ত বা তদন্তাধীন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;
৩. আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, সাজা সমাপ্তির পর থেকে ০৩ (তিন) বছর পর্যন্ত;
8. যে কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি;
৫. আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘােষিত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;
৭.ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ২৬ (গ) ধারা অনুযায়ী ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তি।

৭.ব্যাংক কর্মকর্তাগণ অবসরগ্রহণ বা পদত্যাগের পরবর্তী এক বছর একই ব্যাংকের জন্য।
৮. অন্য ব্যাংকের বিদ্যমান এজেন্ট।

এজেন্ট যা করতে পারবেন না:

এছাড়াও আপনি যদি এ এজেন্ট হয়ে যান তাহলে আপনাকে যে সমস্ত রিকোয়ারমেন্ট মেনে চলতে হবে সেই সমস্ত রিকোয়ারমেন্ট এর কথা নিচে মেনশন করা হলো।

অর্থাৎ একজন এজেন্ট হিসেবে আপনার যে সমস্ত কাজগুলো করা উচিত হবে না সেই সম্পর্কে নিচে থেকে জেনে নিন।

১. একই সাথে একাধিক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা।

২. এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্রে অনুমােদিত ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্য কোন ব্যবসা/কার্যক্রম পরিচালনা।

৩.গ্রাহকদের হিসাব খােলার অথবা বিনিয়ােগের অনুমােদন দেয়া।

8. ব্যাংকের যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোন তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব করা।

৫. সিস্টেম অকার্যকর থাকা অবস্থায় অথবা স্বয়ংক্রিয় রশিদ প্রদান ব্যতিরেকে কোন ধরণের লেনদেন।

৬. ব্যাংকিং সিস্টেমের বাহিরে/সমান্তরালে গ্রাহদের সাথে আলাদাভাবে লেনদেন।

৭. চেকের মাধ্যমে লেনদেন।

৮. বিদেশী মূদ্রার লেনদেন/কেনাবেচা ।

৯. গ্রাহকের পক্ষে ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু ।

১০. কর্তৃপক্ষের অনুমােদন ছাড়া কেন্দ্রের বাহিরে অন্যত্র অফিস/বুথ/ সাইনবাের্ড স্থাপন করে ব্যাংকিং পরিচালনা বা সাব-এজেন্ট নিয়ােগ।

১১. কর্তৃপক্ষের অনুমােদন ছাড়া কেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন।

১২. বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ব্যাংক নির্ধারিত চার্জের বেশী আদায়।

যে কারণে এজেন্ট চুক্তি বাতিল হবে

একজন এজেন্ট হওয়ার পরে যে সমস্ত কারণে আপনার এজেন্ট চুক্তি বাতিল হতে পারে সে সমস্ত কারণ সম্পর্কে নিচে থেকে জেনে নিন।

১. এজেন্ট হিসেবে অনুপযুক্ততার কোন কারণ ঘটলে অথবা এজেন্ট হওয়ার অনুপযুক্ত কোন ব্যাক্তির কাছে আংশিক মালিকানা হস্তান্তর করলে।

২. এজেন্টের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড বন্ধ হওয়া ও স্বেচ্ছায় অথবা আদালত বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার কারণে।

৩. এজেন্ট বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হলে এবং পরবর্তী ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে ক্ষতি কাটিয়ে এজেন্সি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালাতে অপারগ হলে।

৪.ব্যাংকের পূর্বানুমতি ব্যতিত এজেন্ট মালিকানা হস্তান্তর বা কেন্দ্রের ঠিকানা পরিবর্তন করলে কিংবা কেন্দ্র বন্ধ রাখলে।

৫. এজেন্ট তার বৈধ ব্যবসায়িক অনুমতিপত্র বা ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে।

৬. বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনের কোন ধারা বা শর্ত অমান্য করলে।

৭. ব্যাংকের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মিথ্যা বা ভুল তথ্য সরবরাহ করলে।

ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট হওয়ার নিয়মাবলী কি?

এবার তাহলে এক নজরে জেনে নিন আপনি যদি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে চান কিংবা ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করতে চান, তাহলে আপনাকে যে সমস্ত পদক্ষেপ অনুসরণ করতে হবে সেই সম্পর্কে।

ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট হওয়ার জন্য যে নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে সেই নিয়মাবলী সম্পর্কে নিচে থেকে জেনে নিন।

১. নির্দিষ্ট আবেদনপত্র পূরণ করে নিকটস্থ শাখায় জমা দিতে হবে।
২. শাখা প্রধান আবেদনপত্র যাচাই করে জোনাল অফিসের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে পাঠাবেন।

আর এটিই হলো ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং সম্পর্কে যে তথ্য হয়েছিল সেই তথ্য সম্পর্কে সর্বশেষ।

এছাড়াও এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জেনে নেয়ার জন্য আপনি চাইলে ইসলামী ব্যাংক হেল্পলাইন নাম্বারে কল করতে পারেন এবং তাদের কাছ থেকে এই রিলেটেড নানা রকমের সহযোগিতা নিতে পারেন।

একটা বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন আর সেটি হলো ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকার হওয়ার পরে তাদের যে রুলস রয়েছে সে সমস্ত রুলস মেনে চলবেন।

কারণ আপনি যদি তাদের নিয়মের খেলাপ করেন তাহলে তারা যেকোনো সময় আপনার এজেন্ট বাতিল করে দিতে পারে, আরেকবার যদি তারা আপনার এজেন্ট এর তোকমা বাতিল করে দেয় তাহলে এটি ফিরে পাওয়া খুবই কষ্টকর হবে।

Also Read:

Leave a Comment

close