সোনালী ব্যাংক মাসিক মুনাফা প্রকল্প

আপনি যদি সোনালী ব্যাংকের একজন গ্রাহক হয়ে থাকেন এবং আপনার যদি সোনালী ব্যাংকে ডিপিএস একাউন্ট থেকে থাকে, তাহলে সোনালী ব্যাংক মাসিক মুনাফা অ্যাকাউন্ট রিলেটেড তথ্য জেনে নিতে চাইবেন।

সোনালী ব্যাংক মাসিক মুনাফা একাউন্ট রিলেটেড সমস্ত তথ্য সোনালী ব্যাংক থেকে অনুসন্ধান করার পাওয়া গিয়েছে, সেগুলো আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে।

সোনালী ব্যাংক মাসিক মুনাফা হিসাবের মেয়াদকাল কত?

আপনি যদি সোনালী ব্যাংকে ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে চান, তাহলে প্রথম একটি প্রশ্ন আপনার মনের মধ্যে বাসা বাঁধতে পারে আর সেটি হলো-  এই একাউন্টের মেয়াদকাল কত বছর হবে?

আপনি যদি সোনালী ব্যাংকের মাসিক ডিপোজিট একাউন্ট তৈরী করেন তাহলে, আপনি চাইলে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে শুরু করে ৫ পাঁচ বছর মেয়াদের অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

অর্থাৎ তিন বছর এবং পাঁচ বছর মেয়াদি মাসিক মুনাফা একাউন্ট তৈরি করা সম্ভব।

এককালীন কত টাকা জমা দিতে হবে?

অ্যাকাউন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে এককালীন আপনাকে ৫০,০০০ টাকা জমা দিতে হবে।

আপনি যদি পঞ্চাশ হাজার টাকা জমা দেয়ার মত যোগ্য ব্যক্তি হয়ে থাকেন, তাহলে এই অ্যাকাউন্টটি তৈরি করার জন্য আপনি প্রস্তুত।

একাউন্ট তৈরী করার ক্ষেত্রে সুদের হার?

সুদের হার নিয়ে কথা বলার পূর্বে একটা বিষয় বলে রাখা ভাল আর সেটা হল-  সুদ নিঃসন্দেহে হারাম বা বর্জনীয় একটি জিনিস। মুসলমান হিসেবে আপনি কখনোই সুদের কথা চিন্তাও করতে পারবেন না।

তার পরেও আপনি যদি মাসিক মুনাফা অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন, তাহলে তিন বছর এবং পাঁচ বছর মেয়াদের একাউন্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন রকমের সরল মুনাফা পাবেন।

  • তিন বছর মেয়াদী অ্যাকাউন্টের জন্য ৮.৫০% সরল হারে মুনাফা।
  • পাঁচ বছর মেয়াদের অ্যাকাউন্টের জন্য ৯.৫০% সরল হারে মুনাফা পাবেন।

এছাড়াও আপনি যদি এই রিলেটেড আরো বেশি সহজ তথ্য জেনে নিতে চান, তাহলে নিম্নলিখিত চার্ট থেকে সেই বিষয়ে জেনে নিতে পারেন।

আমানতের পরিমাণ৩ বছর মেয়াদে মাসিক প্রদেয় মুনাফা
 ৫ বছর মেয়াদে মাসিক প্রদেয় মুনাফা
৫০,০০০.০০৮.৫০% সরল মুনাফায় প্রতি মাসে ৩৫৪.০০ টাকা৯.৫০% সরল মুনাফায় প্রতি মাসে ৩৯৬.০০ টাকা
১,০০.০০০.০০৮.৫০% সরল মুনাফায় প্রতি মাসে ৭০৮.০০ টাকা৯.৫০% সরল মুনাফায় প্রতি মাসে ৭৯২.০০ টাকা

উপরে যে চার্ট আলোচনা করা হয়েছে, সেটি মূলত সোনালী ব্যাংক মাসিক প্রকল্প রিলেটেড একটি নির্ভরযোগ্য তথ্য।

মাসিক মুনাফা অ্যাকাউন্ট তৈরি করার শর্ত

এবার আপনি যদি সমস্ত সুবিধার কথা জেনে নেয়ার পরেও মাসিক মুনাফা অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে চান, তাহলে আপনাকে কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে।

  • আপনি যদি ইতিপূর্বে কোন একটি মুনাফা একাউন্ট তৈরী করে থাকেন, তাহলে উপরে বর্নিত মুনাফার হার ওই অ্যাকাউন্টে কার্যকর হবে না।
  • আপনি চাইলে আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।
  • MES প্রকল্পের মূল সার্কুলার নং-২৫ তারিখ-৩১ আগস্ট,২০০৮ এর অন্যান্য শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে।
  • উক্ত মুনাফা হতে বিধি মোতাবেক উৎসে কর এবং আবগারী শুল্ক গ্রাহকের নিকট হয়ে আদায় করতে হবে।

মূলত উপরে উল্লেখিত যে সহজ চারটি শর্ত রয়েছে, সে সমস্ত শর্ত আপনি যদি মেনে চলতে পারেন, তাহলে আপনি চাইলে মাসিক মুনাফা একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

একাউন্ট কিভাবে তৈরি করবেন?

আপনি যদি মাসিক মুনাফা একাউন্ট তৈরী করতে চান, তাহলে আপনাকে প্রথমত একাউন্ট অপেনিং ফর্ম ডাউনলোড করে নিতে হবে এবং তারপরে আপনার যাবতীয় তথ্য দিয়ে এক ফরমটি ফিলাপ করে নিতে হবে।

একাউন্ট অপেনিং ফর্ম নিচে থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

Download Form

উপরে উল্লেখিত লিংকে ক্লিক করলে একাউন্ট অপেনিং ফর্ম ডাউনলোড হয়ে যাবে। এছাড়াও আপনি যদি এটি ডাউনলোড করতে না চান,  তাহলে ব্যাংকে চলে গেলে তারা আপনাকে এই ফরমটি দিয়ে দিবে।

একাউন্ট তৈরি করার জন্য আরও অন্যান্য যে সমস্ত ডিটেইলস রয়েছে, সে সমস্ত ডিটেলস গুলো সাথে নিয়ে যাবেন।

অর্থাৎ একাউন্ট তৈরি করার জন্য আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, আপনার সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি একই সাথে নমিনির এ সমস্ত ডকুমেন্ট প্রয়োজন হবে।

এছাড়াও আপনার মাসিক বেতনের স্লিপ, ইউটিলিটি বিল এর কপি এবং গ্যারান্টি হিসেবে একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে হবে।

যখন আপনি এই সমস্ত ডকুমেন্টস নিয়ে ব্যাংকে হাজির হয়ে যাবেন তখন তারা আপনার বিষয়গুলো ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে এবং তারপরে যদি তারা এটা মনে করে যে আপনি একাউন্ট তৈরি করার জন্য যোগ্য, তাহলে তার অ্যাকাউন্ট তৈরি করার কাজ শুরু করে দিবে।

সোনালী ব্যাংক মাসিক মুনাফা একাউন্ট তৈরি করা কি ঠিক হবে?

আপনি যদি এমনিতে কোনও মাসিক মুনাফা একাউন্ট তৈরী করে থাকেন, তাহলে সেটা কোন রকমে ভুল কোন কাজে হিসাবে বিবেচিত হবে না।

তবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরে আপনি যদি সেই অ্যাকাউন্ট থেকে সুদের কারবার এর জড়িয়ে পড়েন, তাহলে সেটি মারাত্মক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

অর্থাৎ আপনি কোনোক্রমে সুদের সাথে জড়িত হতে পারবেন না। কারণ সুদ হলো মস্ত বড় জুলুম এবং অপরাধ।

সেজন্য আপনি যদি এ সমস্ত অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরে আপনার অ্যাকাউন্টে যত টাকা জমা রেখেছেন, সেগুলো নিয়ে সুদের টাকা পরিহার করতে পারেন, তাহলে ইনশাল্লাহ আপনার টাকা গুলো হারাম বা বর্জনীয় হবে না।

যারা আমার (আল্লাহর) উপদেশ শোনার পর সুদ থেকে বিরত থাকে তাদের আগের সুদ গ্রহণের বিষয়টি ক্ষমা করার ব্যাপারে আল্লাহর ইচ্ছাধীন। পক্ষান্তরে যারা উপদেশ শোনার পর আবারো সুদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে; তারা চিরস্থায়ী জাহান্নামের অধিবাসী। পড়ুন- সুরা বাকারার ২৭৪ নং আয়াত

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top