মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডিপোজিট বা ডিপিএস রেট

আপনি যদি মার্কেটাইল ব্যাংক ডিপোজিট করতে চান, তাহলে আপনাকে সর্বপ্রথম মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডিপোজিট বা মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডিপিএস সম্পর্কে জেনে নিতে হবে।

অর্থাৎ আপনি এই ব্যাংকে টাকা জমানোর পরিবর্তে কি রকম সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন, সেই রিলেটেড একটি তথ্য জেনে নিতে হবে।

আজকের এই আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে মার্কেনটাইল ব্যাংক ডিপোজিট কিংবা মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডিপিএস রেট সম্পর্কে বিস্তারিত।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডিপোজিট

আপনি চাইলে এই ব্যাংকে বিভিন্ন রকমের ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন এবং সমস্ত ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট থেকে ভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা উপভোগ করবেন।

সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী আপনি যদি মার্কেন্টাইল ব্যাংকে একটি ডিপিএস অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে চান তাহলে যে সমস্ত টাইপের মধ্যে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন সেগুলো হলো।

  • মাসিক মুনাফা আমানত প্রকল্প।
  • মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প।
  • ত্রী মাসিক মুনাফা আমানত প্রকল্প।
  • সুপার আমানত প্রকল্প।
  • অপরাজিতা মাসিক মুনাফা প্রকল্প।
  • পরিবার সুরক্ষা আমানত প্রকল্প।
  • দ্বিগুণ বৃদ্ধি আমানত প্রকল্প৷

সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী আপনি চাইলে উপরের উল্লেখিত ৭টি টাইপের মধ্যে একটি ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

অর্থাৎ আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে কোন একটি টাইপের মধ্যে একটি ডিপিএস অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন এবং এখানে থাকা প্রত্যেকটি টাইপের ভিন্ন ভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

মাসিক মুনাফা আমানত প্রকল্প

আপনি যদি মার্কেন্টাইল ব্যাংকে মাসিক মুনাফা আমানত প্রকল্প নামের একটি ডিপিএস অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নেন তাহলে যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন সেগুলো নিচে দেওয়া হল।

  • এই আমানত প্রকল্প আপনি চাইলে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।
  • প্রথম ডিপোজিট হিসেবে সর্বনিম্ন ৫০,০০০ টাকা কিংবা তার দ্বিগুণ রাখতে পারবেন।
  • মাসিক আমানত লোন প্রকল্প প্রসেসিং ফি মাত্র ৫০ টাকা।

মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প

এছাড়াও আপনি চাইলে আরেকটি ক্যাটাগরির মধ্যে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ডিপোজিট একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন। আর সেটি হলো মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প।

  • এখানে আপনি চাইলে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।
  • এবং প্রতিমাসে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা ডিপোজিট করতে পারবেন।
  • অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য লোন প্রসেসিং ফী ৫০ টাকা মাত্র।

ত্রী মাসিক মুনাফা আমানত প্রকল্প

এছাড়াও আপনি চাইলে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের তৃী মাসিক মুনাফা আমানত প্রকল্প একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

  • অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরে আপনি চাইলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের জন্য একাউন্ট একটিভ রাখতে পারবেন।
  • সর্বনিম্ন প্রতি মাসে ৫০,০০০ টাকা অবধী রাখতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ তার দ্বিগুণ রাখতে পারবেন।

সুপার আমানত প্রকল্প

সুপার আমানত প্রকল্প রিলেটেড যে সমস্ত ফিচার রয়েছে সেগুলো নিচে তুলে ধরা হয়।

  • এই আমানত প্রকল্প আপনি ১ বছরের জন্য খুলতে পারবেন এবং এই প্রকল্পের বিভিন্ন রকমের সুবিধা রয়েছে।
  • অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পড়ে আপনি চাইলে সর্বনিম্ন দেড় লক্ষ টাকা রাখতে পারবেন। অথবা তার দ্বিগুন পরিমান টাকা রাখতে পারবেন।
  • সর্বোচ্চ ১ বছরের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন এবং একাউন্ট তৈরি করার জন্য প্রসেসিং ফি মাত্র ৫০ টাকা।

অপরাজিতা মাসিক মুনাফা প্রকল্প

এছাড়াও মার্কেন্টাইল ব্যাংকে আরেকটি অসাধারণ ডিপিএস অ্যাকাউন্ট হল অপরাজিতা মাসিক মুনাফা প্রকল্প ডিপিএস অ্যাকাউন্ট।

  • এই ডিপিএস অ্যাকাউন্ট সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জন্য তৈরি করা যাবে।
  • প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে, আপনার প্রয়োজনে তার দ্বিগুন টাকা ডিপোজিট করতে হবে।
  • অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য প্রসেসিং ফি ৫০ টাকা।

পরিবার সুরক্ষা আমানত প্রকল্প

এছাড়াও চমকপ্রদ আরেকটি ডিপিএস অ্যাকাউন্ট হল পরিবার সুরক্ষা আমানত প্রকল্প ডিপিএস অ্যাকাউন্ট।

  • এই অ্যাকাউন্ট আপনি চাইলে সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪ বছর অব্দি মেয়াদের জন্য তৈরী করতে পারবেন।
  • এই অ্যাকাউন্টটিতে সর্বনিম্ন ডিপোজিট রেট হচ্ছে ৫০,০০০ টাকা।

দ্বিগুণ বৃদ্ধি আমানত প্রকল্প

দ্বিগুণ বৃদ্ধি আমানত প্রকল্প ডিপোজিট একাউন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে আপনি যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

  • অ্যাকাউন্ট আপনি চাইলে সর্বোচ্চ ১২ বছর মেয়াদের জন্য তৈরি করতে পারবেন।
  • প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা ডিপোজিট করে রাখতে হবে। অথবা আপনি চাইলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী টাকার এমাউন্ট বৃদ্ধি করতে পারবেন। কিন্তু ১০,০০০ টাকার কম নয়।
  • অ্যাকাউন্টটি মূলত সর্বোচ্চ বেনিফিটের জন্য তৈরি করা যেতে পারে অর্থাৎ আপনার বিয়ের খরচ কিংবা পড়াশোনার খরচ বাবদ অ্যাকাউন্টটি তৈরি করে রাখতে পারেন।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডিপোজিট একাউন্ট খোলার নিয়ম

আপনি যদি ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই নিম্নলিখিত বিধি-নিষেধ মানতে হবে এবং তারপর একাউন্ট খোলার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।

  • অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য অবশ্যই একটি একাউন্ট অপেনিং ফর্ম এর প্রয়োজন হবে যা আপনাকে ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করে নিতে হবে।
  • বৈধ পাসপোর্ট/ নিয়োগকর্তার সার্টিফিকেট/ আইডি কার্ড/ ড্রাইভিং লাইসেন্স/ ভোটার আইডি কার্ড/ ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা সনদপত্রের ফটোকপি স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার/ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক সত্যায়িত।
  • যে ব্যক্তি একাউন্ট তৈরি করবেন সেই ব্যক্তির সত্যায়িত করার জন্য সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি। এছাড়াও গ্যারান্টার ব্যক্তির একই রকমের ছবি প্রয়োজন হবে।
  • ইউটিলিটি বিলের কপি, যেমন- আবেদনকারীর নামে বিদ্যুৎ বিল/ ল্যান্ড ফোন বিল/ সেল ফোন বিল/ গ্যাস বিল/ ওয়াসা বিল ইত্যাদির কপি ব্যাংকে জমা দিতে হবে।
  • নির্দিষ্ট পরিমান টাকা জমা দিতে হবে। অর্থাৎ আপনি যে একাউন্ট তৈরি করবেন সেই একাউন্ট খোলার জন্য প্রথম ডিপোজিট করে দিতে হবে।
  • এছাড়াও যদি অন্যান্য কাগজপত্র আপনার কাছ থেকে ব্যাংক কর্মকর্তারা দাবি করে, তাহলে সে সমস্ত কাগজপত্র দিয়ে দিতে হবে।

আর উপরে উল্লেখিত উপায়ে আপনি চাইলে খুব সহজেই মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ডিপোজিট একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন এবং এই ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সুযোগ সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

শেষ কথাঃ আপনি হয়তো অ্যাকাউন্ট তৈরি করার পরে তারা আপনার একাউন্টে কিছু মুনাফা যোগ করে দিবে। যেটি আসলে সু’ দ বা ইন্টারেস্ট বিবেচিত হয়।

সে জন্য আপনি যদি পবিত্র থাকতে চান এবং কোনভাবে এই এই বিষয়ের সাথে জড়িত হতে না চান, তাহলে আপনি যত টাকা জমিয়েছেন, একাউন্টে ষোলোকলা পূর্ণ হওয়ার পরে তত টাকা নিতে পারেন।

বাকি লাভকৃত অংশের টাকা আপনি চাইলে কোন এতিমখানা কিংবা এরকম কোন প্রতিষ্ঠান দান করে দিতে পারেন। যা আপনার টাকা গুলো পবিত্র রাখতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট কিংবা মার্কেনটাইল ব্যাংক ডিপিএস অ্যাকাউন্ট রেট রিলেটেড বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

আশা করি, এই রিলেটেড তথ্য জেনে নিতে পেরেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top